কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

কালোজিরা হলো এক প্রকার মহৌষধি বীজ যা বিভিন্ন চিকিৎসা এবং রান্নায় ব্যবহৃত হয়। আপনি যদি এই কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আমি এই আর্টিকেলে আপনাদের জানাবো কালোজিরা কি, কালোজিরা চিবিয়ে খাবার সঠিক নিয়ম, কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা, কালোজিরা কখন খেতে হবে এবং দৈনিক কতটুকু পরিমান খেতে হবে?
কালোজিরা খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম আছে যেমন গুড়ো করে খাওয়া, ভিজিয়ে খাওয়া, চিবিয়ে খাওয়া, মধুর সাথে খাওয়া ও তেল হিসেবে খাওয়া। কিন্তু সব নিয়মের মধ্যে কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া অধিক কার্যকর কারণ এতে কালোজিরার মূল সক্রিয় উপাদান শরীরে দ্রুত প্রবেশ করে। এখন আমি কালোজিরা খাওয়ার সব রকম নিয়মেরই কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে জানবো।

পেজ সূচীপত্রঃকালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

কালোজিরা চিবিয়ে খেলে এতে থাকা থাইমোকুইনোন দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার ফলে এটি সহজেই লালারসে সঙ্গে মিশে যায় ও দ্রুত খাদ্য পাচনের সহায়তা করে যার ফলে গ্যাস্ট্রিক ও বদহজম নিরাময় হয়। চিবিয়ে খাওয়ার ফলে কালোজিরা থেকে ভালো পরিমান ডায়েটারি ফাইবার উৎপন্ন হয় যা হজম শক্তি ঠিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

কালোজিরাতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড এসিড কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে না। কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভেতর থেকে কাজ করে যা ত্বকের দাগ, ব্রণ ও চুল পড়া রোধে সাহায্য করে।চিবিয়ে খাওয়ার ফলে গলা উষ্ণ রাখে এবং নাক ও মুখের বন্ধভাব দূর করে।

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার সঠিক নিয়ম

কালোজিরা খাওয়ার সবচেয়ে উত্তম নিয়ম হলো চিবিয়ে খাওয়া এবং খাওয়ার উপযুক্ত সময় হল সকালে খালি পেটে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে। এই দুই সময়ের মধ্যে কালোজিরা খেলে শরীরে সর্বাধিক কার্যকর হয়। কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার বেশ কয়েকটি মাধ্যম আছে যার মধ্যে দুটি পছন্দনীয় মাধ্যম হলো পানির সাথে অথবা মধুর সাথে খাওয়া।

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছে, প্রথমেই হাফ চা চামচ বা দুই থেকে তিন গ্রাম পরিমাণ কালোজিরা মুখের ভেতর নিয়ে ৩০-৪০ সেকেন্ড যাবৎ ভালোভাবে চিবাতে হবে তারপর এক চামচ মধু বা এক গ্লাস পরিষ্কার পানি সহকারে গিলে নিতে হবে। এই নিয়মে কালোজিরা খেলে আমরা দ্রুত উপকারিতা লাভ করব।

কালোজিরার বিভিন্ন পুষ্টি গুনাগুন

  • প্রোটিন প্রায় ২০-২৫%
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড
  • ওমেগা-৬ ফ্যাটি আসিড
  • লিনোলিক ও ওলিক এসিড
  • ভিটামিন A
  • ভিটামিন B1,B2,B3
  • ভিটামিন C
  • ভিটামিন E
  • ক্যালসিয়াম
  • লোহা
  • পটাশিয়াম
  • সোডিয়াম
  • জিংক
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • থাইমোকুইনোন
  • থাইমোহাইড্রোকুইনোন
  • নাইজেলন

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া ও অন্যান্য উপায়ে খাওয়ার মধ্যে কোনটা অধিক কার্যকর?

কালোজিরা খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম আছে যেমন গুড়ো করে খাওয়া, ভিজিয়ে খাওয়া, চিবিয়ে খাওয়া, মধুর সাথে খাওয়া ও তেল হিসেবে খাওয়া। কিন্তু সব নিয়মের মধ্যে কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া অধিক কার্যকর কারণ এতে কালোজিরার মূল সক্রিয় উপাদান শরীরে দ্রুত প্রবেশ করে। এখন আমি কালোজিরা খাওয়ার সব রকম নিয়মেরই কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে জানবো।

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়াঃ 
কালোজিরা খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হলো কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া। কালোজিরা চিবিয়ে খেলে এর মধ্যে থাকা তেল বের হয়ে সরাসরি শরীরে শোষিত হয়, লালা রসের সাথে মিশে দ্রুত শোষিত হয় বলে গলা, মুখ ও শ্বাসনালী তাৎক্ষণিকভাবে উপকার পায়। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও বদ হজমে দ্রুত কাজ করে।

কালোজিরা গুড়ো করে খাওয়াঃ কালোজিরা গুঁড়ো করে খাওয়া হলো সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি, এর কিছু সুবিধা আছে যেমন; খেতে সুবিধা, সময় সাশ্রয় হয়, যেকোনো খাবারের সাথে মিশানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার উপযোগী। কিন্তু গুড়ো করা কালোজিরার অসুবিধা হচ্ছে; আলো-বাতাসে পুষ্টিগুণাগুণ কিছুটা নষ্ট হয়, দীর্ঘ মেয়াদি উপকার পাওয়া যায় না, কালোজিরা গুঁড়ো করে খেলে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়।

মধুর সাথে কালোজিরা খাওয়াঃ
মধুর সাথে কালোজিরা খাওয়াও অনেকের কাছে পছন্দের কারণ মধুর সাথে কালোজিরা খাওয়ার মধ্যে অনেকটা স্বাদের ব্যাপার আছে। এই পদ্ধতিতে কালোজিরা খাওয়ার সুবিধা হচ্ছে স্বাদ ভালো, মধু আরো বেশি ইমিউনিটি বাড়ায় এবং গলা ব্যথায় উপকারী কিন্তু চিবিয়ে খাওয়ার মতো সরাসরি তেল বের হয় না বলে এর কার্যকারিতা একটু কম।

কালোজিরা ভিজিয়ে খাওয়াঃ
কালোজিরা ভিজিয়ে খেলে এটি সহজে হজম হয়। গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য এটি একটি আরামদায়ক কিন্তু এভাবে খাওয়ার অসুবিধা হচ্ছে ভিজিয়ে রাখার কারণে কালোজিরা আর কিছু পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। তাই কালোজিরা খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হলো কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া। কারণ কালোজিরা চিবিয়ে খেলে এর সবগুলো পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরে দ্রুত শোষিত ও কার্যকার হয়।

কেন কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া অধিক উপকারী?

কালোজিরা হলো একটি প্রাকৃতিক উপাদান। মানুষ আদিকাল থেকেই বিভিন্ন চিকিৎসায় কালোজিরার ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে কালোজিরা প্রায় সকল প্রকার রোগের প্রতিকার ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আর বৈজ্ঞানীক গবেষণার মাধ্যমে এ ও জানা গেছে যে কালোজিরা খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো চিবিয়ে খাওয়া।

কালোজিরা চিবিয়ে খেলে এটি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করে, যেমনঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে,মাথাব্যাথা কমায়, হজমের সমস্যা দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে, কিডনির সমস্যা সমাধান করে, চোখের সমস্যা সমাধান করে, হাঁটু ও পিঠের ব্যাথা দূর করে, সর্দি-জ্বর নিরাময় করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, যৌন সমস্যা সমাধান করে এবং বুকের দুধ বৃদ্ধি করে।

চুল পড়া ও ত্বকের সমস্যা উপশমে কালোজিরার উপকারিতা

বর্তমান সময়ে চুল পড়া ও ত্বকের সমস্যা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ছোট থেকে বড় সবরকম বয়সের মানুষের এখন এইসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর পিছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে যেমনঃ পুষ্টির অভাব, মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা, হরমোনের পরিবর্তন, রাসায়নিক পণ্য যেমন; জেল, হেয়ার কালার,ফেসওয়াশ ও ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করা। তাই চুল পড়া দূর করতে, মাথায় নতুন চুল গজাতে এবং ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখতে কালোজিরা ব্যবহার করতে হবে।

চুল পড়ায় কালোজিরাঃকালোজিরা হলো প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন বীজ যাতে রয়েছে থাইমোকুইনন যা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুলের গোড়াকে শক্তিশালী করে যার ফলে চুল পড়া কমে ও নতুন চুল গজায়। কালোজিরায় বিদ্যমান এন্টি ব্যাকটেরিয়াল খুশকি ও চুলকানি কমজার। এছাড়াও সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন কালোজিরা তেল দিয়ে মাথা ম্যাসাজ করলে চুলের আগা ফাটা বন্ধ হয়, চুল পড়া কমায় ও মাথায় খুশকি হওয়ার মতো সমস্যা সমাধান করে।

ত্বকের সমস্যায় কালোজিরাঃ কালোজিরাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে ময়লা, ডেড স্কিন, টক্সিন দূর করে এবং ত্বককে করে উজ্জ্বল। কালোজিরা তেল ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক গভীর থেকে মশ্চারাইজ হয় এবং ত্বক ফাটা, ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হয় এবং ত্বক হয় নরম। কালোজিরা তেল সরাসরি বা মধুর সাথে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায় সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ত্বক থাকে নরম ও মসৃণ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ম্যাস ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url